কৃষিপণ্যের নূন্যতম মূল্য নির্ধারণের দাবিতে আবারও বিক্ষোভে উত্তাল ভারত। কৃষকদের দিল্লি চলো কর্মসূচী ঠেকাতে রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। আগামী ৯ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১টি অঞ্চলে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ। জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার পাঞ্জাব থেকে দিল্লি অভিমুখে কৃষকদের পদযাত্রা ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। পাঞ্জাব-হরিয়ানার শম্ভু সীমান্তে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারী কৃষকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কৃষকদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে। আহত হয় বেশ কয়েকজন কৃষক। ৪৫ জন কৃষককে আটক করেছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, শুক্রবার ‘দিল্লি চলো’ পদযাত্রা পুনরায় শুরুর চেষ্টা করছিলেন কৃষকরা। পরে রাজধানী থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার উত্তরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কৃষকরা পুলিশের লোহার ব্যারিকেডের একটি স্তর ভেঙে ফেলে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে বাধার মুখে পরে সুরক্ষা বাহিনী পিছুও হটে। তবে পরে কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।
উৎপাদিত ফসলের নূন্যতম সহায়ক মূল্যের আইনি স্বীকৃতি, কৃষিঋণ মওকুফ, বিদ্যুতের বিল না বাড়ানো ও গত আন্দোলনে কৃষকদের বিরুদ্ধে আনা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লি চলো পদযাত্রা শুরু করেছে কৃষকরা। ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই কৃষকরা ফসলের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তার আইনি গ্যারান্টি এবং ঋণ মওকুফের দাবি করছে। গত ফেব্র“য়ারিতে পুলিশ ‘দিল্লি চলো’ পদযাত্রা বন্ধ করে দেয়। প্রতিবেশী হরিয়ানা রাজ্যের কৃষকরাও পাঞ্জাবের কৃষকদের এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে।
এদিকে, নতুন করে পদযাত্রার সময় হরিয়ানা সরকার আগামী ৯ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১টি অঞ্চলে মোবাইল ইন্টারনেটসহ টেক্সট বার্তা পরিষেবা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ বলছে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদীর সরকার শুক্রবারের বিক্ষোভ নিয়ে যদিও এখনো কোনো মন্তব্য করেনি, তবে হরিয়ানার বিজেপি দলীয় মন্ত্রী অনিল ভিজ বলেছেন, কৃষকরা যদি দিল্লি যেতে চান তবে অনুমতি নিতে হবে।
আগামী রোববার (৮ ডিসেম্বর) ফের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কৃষকরা। কৃষক সংগঠন সম্মিলিত কিষান মোর্চা ও কিষাণ মজদুর মোর্চা রোববার পদযাত্রা চালিয়ে যাবে।
এরআগে, ২০২১ সালে কৃষকরা কয়েক মাস ধরে দিল্লির বাইরে শিবির স্থাপন করে অবস্থান করার মোদি সরকার কিছু কৃষি আইন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল।